জগদীশচন্দ্র বসুর অবদান (Contributions of Jagadish Chandra Bose)

নবম-দশম শ্রেণি (দাখিল) - পদার্থ বিজ্ঞান - জীবন বাঁচাতে পদার্থবিজ্ঞান(Physics to Save Lives) | NCTB BOOK
893
Summary

আচার্য স্যার জগদীশচন্দ্র বসু ছিলেন একজন প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ও জীববিজ্ঞানী, যিনি এই উপমহাদেশে প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া বিজ্ঞানী।

তিনি ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন এবং ফরিদপুরে লেখাপড়া শুরু করেন। কলকাতায় উচ্চ শিক্ষার পর, 1885 সালে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা শুরু করেন।

জগদীশচন্দ্র বসু দূরে রেডিও সংকেত পাঠানোর বিষয়ে গবেষণা করেন এবং ১৮৯৫ সালে প্রথমবারের মতো সফলভাবে বেতারে সংকেত পাঠান। তিনি মাইক্রোওয়েভ গবেষণায়ও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তার আবিষ্কৃত আধারপরিবাহী জংশন রেডিও সংকেত শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়, যা তিনি পেটেন্ট না করে সমগ্রের জন্য উন্মুক্ত করেছেন।

এছাড়া, তিনি উদ্ভিদ শরীরতত্ত্বে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন। উদ্ভিদের বৃদ্ধির রেকর্ড করার জন্য ফ্রেস্কোগ্রাফ আবিষ্কার করেছেন, এবং উদ্দীপকের প্রতি উদ্ভিদের সাড়া বৈদ্যুতিক প্রমাণ করেন। ১৯১৭ সালে কলকাতা শহরে বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনা আছে "অব্য" এবং "Response in the living and nonliving"। ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আচার্য স্যার জগদীশচন্দ্র বসু একদিকে ছিলেন একজন প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী, অন্যদিকে একজন সফল জীববিজ্ঞানী। আমাদের এই উপমহাদেশে তিনি ছিলেন প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া একজন বিজ্ঞানী। জগদীশচন্দ্র বসুর পূর্বপুরুষেরা থাকতেন ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের রাঢ়িখাল গ্রামে। তার জন্ম হয় 1858 সালের 30 নভেম্বর, ময়মনসিংহে। তার বাবা ভগবানচন্দ্র বসু ফরিদপুর জেলার একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তার লেখাপড়া শুরু হয় ফরিদপুরের গ্রামীণ বিদ্যালয়ে, পরে কলকাতায় হেয়ার স্কুল এবং সেন্ট জেভিয়ার স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করেন। 1880 সালে বিএ পাস করার পর তিনি ইংল্যান্ড যান এবং 1880-1884 সালের ভেতরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্সসহ বিএ এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। 1885 সালে মাতৃভূমিতে ফিরে এসে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। সেই যুগে তার কলেজে গবেষণার তেমন কোনো সুযোগ ছিল না, তারপরও তিনি গবেষণার কাজ চালিয়ে যান। দিনের বেলায় তার নানারকম ব্যস্ততা ছিল। তাই গবেষণার কাজ করতেন রাতের বেলায় । 

বৈদ্যুতিক তার ছাড়া কীভাবে দূরে রেডিও সংকেত পাঠানো যায় এ বিষয়ে তিনি অনেক গবেষণা করেন। 1895 সালে তিনি প্রথমবারের মতো বেতারে দূরবর্তী স্থানে রেডিও সংকেত পাঠিয়ে দেখান। মাইক্রোওয়েভ পবেষণার ক্ষেত্রেও তার বড় অবদান আছে, তিনিই প্রথম বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার পর্যায়ে (প্রায় 5 মিলিমিটার) নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রেডিও সংকেতকে শনাক্ত করার জন্য অর্ধপরিবাহী জংশন ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কার পেটেন্ট করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কারিগরি, প্রযুক্তিবিদ এবং পেশাজীবীদের প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অফ ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (IEEE) তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের একজন জনক হিসেবে অভিহিত করেছে। 

পরবর্তী সময়ে জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদ শরীরতত্ত্বের উপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন। এর মাঝে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ফ্রেস্কোগ্রাফ আবিষ্কার, খুব সুক্ষ্ম নাড়াচাড়া শনাক্ত এবং বিভিন্ন উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। আগে ধারণা করা হতো উদ্দীপনের সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি হচ্ছে রাসায়নিক, তিনি দেখিয়েছিলেন এটি আসলে বৈদ্যুতিক। 

1917 সালে উদ্ভিদ শরীরতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করার জন্য তিনি কলকাতায় বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। জগদীশচন্দ্র বসু বাংলায় লেখা রচনাবলি “অব্য” নামক গ্রন্থে সংকলিত করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ হচ্ছে "Response in the living and nonliving". 

1937 সালের 23 নভেম্বর জ্ঞানতাপস আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মৃত্যুবরণ করেন। 

 

Content added || updated By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...